এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট
সর্বশেষ

আমদানি পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালাবে

আমদানিকৃত পণ্য খালাসে বিলম্ব এড়াতে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও কাস্টমস মূল্যায়ন ও খালাস কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।আমদানিকৃত পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সে লক্ষ্যে সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা কাস্টমস মূল্যায়ন ও খালাস সেবা চালু থাকবে।শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি ছুটির দিনসহ সব দিনেই এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, ছুটির দিনেও কাস্টমস মূল্যায়ন কার্যক্রম চালু রাখলে আমদানিকৃত পণ্যের চালান খালাসে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হবে।তিনি বলেন, ছুটির দিনেও আমদানিকৃত পণ্যের চালান খালাস করা যাবে। ফলে খালাস প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না।কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাসের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তীব্র প্রতিবাদের মুখে একক ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্টের নির্দেশনা প্রত্যাহার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির মাধ্যমে বন্দর চার্জ পরিশোধের নির্দেশনা দিয়ে জারি করা সার্কুলার প্রত্যাহার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।আমদানি-রপ্তানিকারক ও কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে গতকালই নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করা হয়।এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার নতুন এই ব্যবস্থা চালু করে কর্তৃপক্ষ। এতে ওইদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কিছু পণ্য খালাসের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।অনেক ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জানান, তাদের ইস্টার্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট নেই। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করেন, পণ্য খালাসে দেরি হলে ডেমারেজসহ অন্যান্য খরচ বাড়তে পারে।আগে যেখানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধা ছিল, সেখানে এখন কেন একটি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হবে- এ প্রশ্ন তোলেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বলেন, 'আমদানি-রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে। সবার একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকবে—এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।'তিনি বলেন, 'আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে জনতা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধা ছিল।'কাজী মাহমুদ ইমাম জানান, আকস্মিক এই পরিবর্তনে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও অন্যান্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তারা আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার দাবি জানান।প্রতিবাদের মুখে বন্দর কর্তৃপক্ষ সার্কুলারটি প্রত্যাহার করে বিকেলেই আগের পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে।এর আগে, গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে জাহাজের ১০০ শতাংশ বিল অনলাইনে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে প্রস্তূত ও সংগ্রহ করা হবে।নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির একটি বুথ স্থাপন করা হবে। এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ছুটির দিনসহ ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে পেমেন্টের সুবিধা দেওয়া হবে। এ ছাড়া পুরোপুরি অনলাইন ই-গেট পাস, গেট-ইন ও গেট-আউট কার্যক্রম, সময়-স্লট ব্যবস্থাপনা, কার্ট টিকিট, ই-গেট চালান ও জাহাজের ই-এনওসি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেমেন্ট না করা হলে বন্দর চার্জের জন্য অটো-পুল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হবে। বিশেষ ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট ও নিলামের পণ্য সরবরাহের কার্যক্রম টিওএসের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন হবে।নিলামের পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা এপিআই-এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমসের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।এছাড়া ড্রপ/পিকআপ টিকিট ও ইআইআরকে ই-গেট পাসের সঙ্গে যুক্ত করা, রিয়েল-টাইমে নথি যাচাই ও বিল তৈরি, আইসিডি ইন্টিগ্রেশন এবং স্লট ম্যাপিংয়ের পর বে টার্মিনালে পেমেন্টের ভিত্তিতে ট্রাক পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বন্দরকে পুরোপুরি কাগজবিহীন ও স্মার্ট বন্দরে পরিণত করা।তবে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, টিওএস চালুর পর থেকে এটি ঠিকমতো কাজ করছে না।তিনি বলেন, 'কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জনবল নেই, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এসব ঘাটতির কারণে পণ্য সরবরাহে দেরি হচ্ছে এবং আমদানি-রপ্তানিকারক ও কাস্টমস এজেন্টদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।'বন্দর ব্যবহারকারীরা বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ফলে পণ্য খালাসের কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে। তবে পেমেন্টের ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যাতে ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার পরিবর্তে নিজেদের বিদ্যমান ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন।
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেসরকারি আইসিডিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বাড়ল ৯.৮৫ শতাংশ

বিকডা জানিয়েছে, বেসরকারি আইসিডিগুলোতে জ্বালানিচালিত যন্ত্রপাতি ও পরিবহন কার্যক্রমে পরিচালন ব্যয় বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে—এই জ্বালানি সারচার্জ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সরকার ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর চট্টগ্রামের বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোতে (আইসিডি) বিভিন্ন কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও পরিবহন চার্জ ৯.৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক সার্কুলারে সংগঠনটি জানিয়েছে, সংশোধিত এই চার্জ ২১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার।উল্লেখ্য, একই দিন থেকে কার্যকর হওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে, যা ১৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধি।বিকডা জানিয়েছে, বেসরকারি আইসিডিগুলোতে জ্বালানিচালিত যন্ত্রপাতি ও পরিবহন কার্যক্রমে পরিচালন ব্যয় বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে—এই জ্বালানি সারচার্জ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পূর্বের পর্যালোচিত সর্বশেষ হারের ওপর আরোপিত এই ৯.৮৫ শতাংশ সারচার্জ মূলত—বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও আইসিডিগুলোর মধ্যে এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) ও আইসিডিগুলোর মধ্যে খালি কনটেইনার পরিবহন সেবা।এছাড়া খালি কনটেইনার লিফট-অন (যানে তোলা) এবং লিফট-অফ (যান থেকে নামানো) চার্জের ক্ষেত্রেও এই মূল্যবৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে।এই সারচার্জের আওতায় আরও রয়েছে– রপ্তানি পণ্য স্টাফিং ও হ্যান্ডলিং প্যাকেজ; যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে খালি ইয়ার্ড থেকে খালি কনটেইনার ওঠানো, কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) শেডে পরিবহন, রপ্তানি পণ্য স্টাফিং বা কনটেইনারে লোড করা, পণ্যবোঝাই কনটেইনার লোড ইয়ার্ডে নেওয়া এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটিতে পৌঁছানো।একই সাথে রপ্তানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার ওজন পরিমাপের বা ভিজিএম (ভেরিফায়েড গ্রস ম্যাস) চার্জও ৯.৮৫ শতাংশ বাড়ছে।ভিজিএম প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে লোড ইয়ার্ড থেকে বোঝাই কনটেইনার তোলা, তা ওজন মাপার স্কেলে নিয়ে যাওয়া, ওজন করা, পুনরায় লোড ইয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া এবং সেখানে রাখা।এই বর্ধিত হার আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জের ওপরও আরোপ করা হবে।আমদানি ডেলিভারি প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বন্দর বা পিসিটি থেকে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার আইসিডিতে আনা, তা নামানো, আমদানি ডেলিভারি ইয়ার্ডে রাখা এবং শ্রমিকদের মাধ্যমে কনটেইনার থেকে পণ্য খালাস করে ট্রাকে তুলে দেওয়া।বিকডা তাদের সদস্য আইসিডিগুলোকে সর্বশেষ পর্যালোচিত দরের ওপর এই ৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি নিজ নিজ গ্রাহকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ার ফলে— ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) খাতে পরিবহন এবং লজিস্টিকস ব্যয় নিয়ে যে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আইসিডি মালিকদের এই সিদ্ধান্ত এল।বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় সব ধরনের আমদানি ও রপ্তানি কার্গো হ্যান্ডলিং পরিচালনা করে থাকে বিকডাভুক্ত এসব বেসরকারি আইসিডি।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিল্প প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা: চার বছরে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে ৪৫ শতাংশ; গতি হারাচ্ছে বিনিয়োগ

শিল্প প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা: চার বছরে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে ৪৫ শতাংশ; গতি হারাচ্ছে বিনিয়োগ

গত চার অর্থবছরে বাংলাদেশের মূলধনি যন্ত্রপাতি, চিকিৎসাসামগ্রী, যানবাহন ও ভারী সরঞ্জাম আমদানি কমেছে প্রায় ৪৫.১ শতাংশ। এই সময়ে লক্ষণীয় ধীরগতি দেখা গেছে দেশের শিল্প প্রবৃদ্ধিতেও। এসব কারণে নতুন বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।২০২১-২২ অর্থবছরে এসব পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৬০ হাজার টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৪০ হাজার টনে। তবে টানা তিন বছর কমার পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব পণ্য আমদানি ১৩.৭ শতাংশ বেড়ে ১৪ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছায়।চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, আরও বড় পরিসরে, ১৫ বছরে এসব পণ্যের সম্মিলিত আমদানি কমেছে ৪১.৫ শতাংশ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এসব পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ২৪ লাখ ১০ হাজার টন, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ লাখ ১০ হাজার টনে নেমে এসেছে।অবশ্য আমদানির পরিমাণের দিক থেকে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও, মূল্যমানের দিক থেকে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে একই সময়ে আমদানি ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি (১৫২.৭ শতাংশ) বেড়েছে। এই ব্যয় ১৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপক গতিমন্থরতার পাশাপাশি আমদানির এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.১৮ শতাংশ। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৩.৭১ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই হার আরও কমে ২.৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই পরিসংখ্যানটি সাময়িক।ঋণগ্রহণের চড়া ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণপত্র (এলসি) খুলতে জটিলতা ও আমদানিতে নানা বিধিনিষেধের কারণে এই ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দীর্ঘস্থায়ী সংকটও বড় ভূমিকা রেখেছে।যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানির এই দীর্ঘস্থায়ী নিম্নমুখী প্রবণতা মূলত বিনিয়োগ চাহিদার দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। এটি দেশের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে দেশীয় বিনিয়োগ যে সার্বিকভাবে কমে গেছে, তা প্রমাণ করার জন্য কেবল আমদানির এই তথ্যই যথেষ্ট নয়।গতি হারাচ্ছে বিনিয়োগঅর্থায়ন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মতো ইউটিলিটির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা এখন বড় পরিসরে বিনিয়োগ করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি অনাগ্রহী হচ্ছেন বলে জানান বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী।পোশাক খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে নিট কাপড়ের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও, ওভেন কাপড়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর; বিশেষ করে চীনের ওপর।নাসের উদ্দিন আরও বলেন, নিট কাপড়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু ওভেন কাপড়ের জন্য এখনও আমদানির ওপরই বেশি ভরসা করতে হয়। 'নিট ও ওভেন দুই ধরনের কাপড়ই শতভাগ দেশীয়ভাবে উৎপাদন করতে পারলে আমরা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় একটি অংশ ধরে রাখতে পারতাম।'তবে বৃহৎ পরিসরের টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের জন্য বিপুল মূলধন, গ্যাস ও বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের প্রয়োজন। এসবের নিশ্চয়তা না থাকলে বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ বলে জানান তিনি।নাসির বলেন, 'সরকার যদি গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে, তাহলে বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।'যেসব খাতে বাংলাদেশ এখনও ব্যাপক আমদানিনির্ভর, ওই খাতগুলোতে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।চার বছরের ধারাবাহিক পতনকাস্টমসের তথ্যে থাকা এই সম্মিলিত আমদানির পতন ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে বিশেষভাবে লক্ষণীয়।ওই অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩০ হাজার ৪০৬.২০ কোটি টাকা মূল্যের ২২ লাখ ৬০ হাজার টন মূলধনি যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি করেছিল। এরপর আমদানির পরিমাণ কমে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৫ লাখ ১০ হাজার টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টন ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ লাখ ৪০ হাজার টনে দাঁড়ায়।তবে এই তিন বছরে আমদানির পরিমাণ কমলেও ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল—যা যথাক্রমে ২৮ হাজার ১৩০.১৪ কোটি, ২৮ হাজার ২৩৩.৩৮ কোটি ও ২৯ হাজার ৪১৭.২২ কোটি টাকা।এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৪ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছায়, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা।এই পরিসংখ্যানগুলোই বলছে, আমদানির এই পতন কেবল এক বছরের কোনো আকস্মিক ধাক্কা ছিল না।২০২৫-২৬ অর্থবছরে আংশিক ঘুরে দাঁড়ানোর আগে কয়েক বছর ধরেই ব্যবসায়ীরা নতুন উৎপাদন লাইন স্থাপন, কারখানা নির্মাণ বা বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানি কমিয়ে দিয়েছিলেন।  আমদানির পরিমাণ কমার বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্যমান বা ব্যয় বৃদ্ধির এই প্রবণতা, দেশে প্রবেশ করা সরঞ্জামের ভৌত পরিমাণ এবং সেসব আমদানির মোট মূল্যের মধ্যকার বড় ধরনের ব্যবধানকে তুলে ধরে।তবে কাস্টমসের এই উপাত্ত থেকে এককভাবে বোঝার উপায় নেই, এই ব্যবধান দাম বাড়ার কারণে, আমদানিকৃত সরঞ্জামের ধরনে পরিবর্তনের কারণে, নাকি অন্য কোনো প্রভাবকের কারণে তৈরি হয়েছে কি না।আমদানিনির্ভরতা অব্যাহতইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অভ বাংলাদেশের (আইবিএফবি) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, জনসংখ্যা ও ভোগ বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমদানির চাহিদা বাড়ছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক, সেখানে বাংলাদেশের উচিত আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় উৎপাদনকে বেছে নেওয়া।তিনি বলেন, 'আমরা যেসব পণ্য আমদানি করি, সেগুলো যদি ধীরে ধীরে দেশেই উৎপাদন করা যায়, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য অনেক ভালো হবে।' স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে প্রধান আমদানি পণ্যগুলো পর্যালোচনা ও সরকারি কৌশল প্রণয়নেরও আহ্বান জানান তিনি।তৈয়ব বলেন, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ যুদ্ধ, সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হওয়া ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের মতো বাহ্যিক ধাক্কাগুলোর কাছে অরক্ষিত হয়ে পড়ে। তৈরি পোশাক খাত এই নির্ভরতার একটি বড় উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্প খাত হওয়া সত্ত্বেও, পোশাক খাত এখনও আমদানিকৃত কাঁচামাল, বিশেষ করে ওভেন কাপড়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।বিনিয়োগের উচ্চ ব্যয়চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের আমদানি কমে যাওয়া মূলত বিনিয়োগের দুর্বল চাহিদারই প্রতিফলন। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পথও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।তিনি বলেন, 'মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাওয়া দেশীয় উৎপাদনের নিম্নমুখী প্রবণতাকেই তুলে ধরে।'এই অধ্যাপক আরও বলেন, চড়া সুদহার, টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট ও এলসি খোলার জটিলতার কারণে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে আমদানির বাড়তি খরচ উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।তিনি বলেন, 'ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন না। তারা যদি ইউটিলিটি সেবা ঠিকমতো না পান, তাহলে উৎপাদন করবেন কীভাবে?'মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শুল্ক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তাগুলোও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।একদিকে দেশীয় উৎপাদনের দুর্বল অবস্থা, অন্যদিকে আমদানির উচ্চ ব্যয়—এই দুইয়ে মিলে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এর ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের আমদানির ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হবে।ভোগ বাড়ছে, পিছিয়ে পড়ছে বিনিয়োগচট্টগ্রাম চেম্বার অভ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আমদানির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের ভোক্তা অর্থনীতির সম্প্রসারণেরও একটি প্রতিফলন। কারণ মানুষের আয়, কর্মসংস্থান ও ভোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য, ভোগ্যপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রীর চাহিদাও বাড়ছে।কিন্তু ক্রমবর্ধমান ভোগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন। যন্ত্রপাতি আমদানির বিষয়টি শিল্প খাতের বিনিয়োগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই দেশে যন্ত্রপাতির উৎপাদন বাড়িয়ে এ ঘাটতি পূরণ করা না গেলে আমদানির এই ধারাবাহিক পতন উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।তাই বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জটি কেবল আমদানি কমানো নয়। বরং যেসব খাতে স্থানীয় উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক, সেগুলোতে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ।
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অর্থনীতি

অর্থনীতি

সারাদেশ

সারাদেশ

গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ

গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ

তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন চলছে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এর মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি সার কারখানাও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চল থেকে সার আমদানিতেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশে বর্তমানে সারের সংকট নেই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মজুত রয়েছে। চলতি মাসেই বিভিন্ন দেশ থেকে আরও সার দেশে আসবে।বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে থাকা সাতটি সার কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (সিইউএফএল), যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি (জেএফসিএল), আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এএফসিএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি (ডিএপিএফসিএল) ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি (এসএফসিএল)। শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন চলছে।বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাতটি কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ থাকলেও এক-দুই দিনের মধ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন শুরুর আশা করা হচ্ছে। কারখানাটি পুরোপুরি শাটডাউন করা হয়নি। তিনি বলেন, আমন মৌসুমে সারের ঘাটতি হবে না। কাতার ও সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে সার আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ব্রুনেই থেকেও সার আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।বিসিআইসির সাতটি কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন। এর মধ্যে গ্যাস সংকটে গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে সিইউএফএল। কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে এটি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) আবদুল্লাহ আল মামুন।গ্যাস সংকটে একই সময় থেকে বন্ধ রয়েছে জেএফসিএলও। এর আগে তিন মাস চালু থাকার পর প্রায় এক বছর কারখানাটি বন্ধ ছিল। জেএফসিএলে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।কাঁচামালের সংকটে গত বছরের নভেম্বর থেকে বন্ধ টিএসপি কারখানা। সেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টন টিএসপি সার উৎপাদন করা সম্ভব। কারখানাটি কবে চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে গত বছরের ১ মার্চ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ টন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।গ্যাস সংকটে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানার উৎপাদনও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন উৎপাদন সক্ষমতার এ কারখানাটি দ্রুত চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।এদিকে ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ২৮ জুন থেকে ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানাটিতে গ্যাসের প্রয়োজন না থাকলেও কাঁচামালের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।বর্তমানে একমাত্র উৎপাদনে থাকা ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ টনের বেশি সার উৎপাদিত হচ্ছে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের মজুত রয়েছে যথাক্রমে ৫ লাখ ৬৮ হাজার, ৩ লাখ ৫২ হাজার, ৩ লাখ ৬৮ হাজার ও ১ লাখ ৮১ হাজার টন। আসন্ন রবি মৌসুমে এসব সারের চাহিদা যথাক্রমে ১৩ লাখ ২৬ হাজার, ৯ লাখ ৮৮ হাজার, ৪ লাখ ৪৯ হাজার ও ৫ লাখ ৯৮ হাজার টন।কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসেই কানাডা, রাশিয়া ও মরক্কো থেকে আরও সার দেশে আসবে। ফলে মৌসুম শুরুর আগেই চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকবে বলে আশা করছে সরকার।কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো সারের সংকট নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মজুত পরিস্থিতি ভালো। সার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তবে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলো দ্রুত সচল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সার আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এদিকে চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ লাখ হেক্টর। রবি মৌসুমে সারের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি থাকবে। ফলে উৎপাদন ও আমদানির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
২০ আগস্ট ২০২৬
কাস্টমস ক্লিয়ারিং সার্ভিস C&F

কাস্টমস ক্লিয়ারিং সার্ভিস C&F

কোন পোস্ট নেই !
অনলাইন জরিপ

অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !
Worldwide Freight Services

Worldwide Freight Services

কোন পোস্ট নেই !
ইমপোর্ট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড import

ইমপোর্ট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড import

কোন পোস্ট নেই !
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

ডি এইচ এল সার্ভিস DHL

ডি এইচ এল সার্ভিস DHL

ডিএইচএল গ্রুপ তাদের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (Q2) দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পুরো বছরের সম্ভাব্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রাবাড়িয়েছে।

ডিএইচএল গ্রুপ তাদের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (Q2) দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পুরো বছরের সম্ভাব্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রাবাড়িয়েছে।

আর্থিক খতিয়ান (Q2 ২০২৬-এর প্রাথমিক ফলাফল)আর্থিক খতিয়ান (Q2 ২০২৬-এর প্রাথমিক ফলাফল)রাজস্ব বৃদ্ধি: বার্ষিক হিসেবে গ্রুপের সামগ্রিক রাজস্ব বা রেভিনিউ ১০%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।EBIT বা পরিচালন মুনাফা: প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী গ্রুপের EBIT প্রায় ১,৮৫০ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের (১,৪২৯ মিলিয়ন ইউরো) তুলনায় ২৯% বেশি।সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা: এই ইতিবাচক গতির কারণে ম্যানেজমেন্ট পুরো ২০২৬ সালের জন্য তাদের EBIT পূর্বাভাস আগের ৬.২ বিলিয়ন ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি নির্ধারণ করেছে।বিভাগ ভিত্তিক পারফরম্যান্সডিএইচএল এক্সপ্রেস (DHL Express): গত বছরের ৭৩০ মিলিয়ন ইউরোর তুলনায় এবার EBIT দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,১৯৫ মিলিয়ন ইউরো। পণ্য পরিবহনের ওজন বৃদ্ধি এবং এয়ার ফ্রেইট ক্যাপাসিটির সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর সুবিধা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।ডিএইচএল গ্লোবাল ফরওয়ার্ডিং (DHL Forwarding): বৈশ্বিক বাজারের নানা জটিলতা কাটিয়ে উঠে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ইউরো EBIT অর্জন করেছে (যা গত বছর ছিল ১৯৬ মিলিয়ন ইউরো)।আর্থিক খতিয়ান (Q2 ২০২৬-এর প্রাথমিক ফলাফল)ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন (DHL Supply Chain): এই বিভাগের EBIT হয়েছে প্রায় ৩০৫ মিলিয়ন ইউরো (গত বছর এটি ৩৪৮ মিলিয়ন ইউরো ছিল, যা মূলত এককালীন কিছু ইতিবাচক সুবিধার কারণে বেশি ছিল)।ডিএইচএল ই-কমার্স (DHL eCommerce): কিছুটা কমে এবার EBIT দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে (গত বছর যা ছিল ৫৬ মিলিয়ন ইউরো)।গ্রুপের অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর বিশেষ কার্যক্রম ("Fit for Growth") এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চাহিদাই মূলত এই আশাতীত মুনাফা অর্জনে বড় অবদান রেখেছে। এই প্রান্তিকের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিবেদন আগামী ৫ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হবে।
এখনই
ফেডেক্স সার্ভিস Fedex

ফেডেক্স সার্ভিস Fedex

কোন পোস্ট নেই !
ইউপিএস সার্ভিস UPS

ইউপিএস সার্ভিস UPS

কোন পোস্ট নেই !
ফটো গ্যালারি

ফটো গ্যালারি

কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
সারাদেশ

সারাদেশ

গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ

গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ

তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন চলছে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এর মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি সার কারখানাও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চল থেকে সার আমদানিতেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশে বর্তমানে সারের সংকট নেই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মজুত রয়েছে। চলতি মাসেই বিভিন্ন দেশ থেকে আরও সার দেশে আসবে।বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে থাকা সাতটি সার কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (সিইউএফএল), যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি (জেএফসিএল), আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এএফসিএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি (ডিএপিএফসিএল) ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি (এসএফসিএল)। শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন চলছে।বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাতটি কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ থাকলেও এক-দুই দিনের মধ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন শুরুর আশা করা হচ্ছে। কারখানাটি পুরোপুরি শাটডাউন করা হয়নি। তিনি বলেন, আমন মৌসুমে সারের ঘাটতি হবে না। কাতার ও সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে সার আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ব্রুনেই থেকেও সার আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।বিসিআইসির সাতটি কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন। এর মধ্যে গ্যাস সংকটে গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে সিইউএফএল। কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে এটি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) আবদুল্লাহ আল মামুন।গ্যাস সংকটে একই সময় থেকে বন্ধ রয়েছে জেএফসিএলও। এর আগে তিন মাস চালু থাকার পর প্রায় এক বছর কারখানাটি বন্ধ ছিল। জেএফসিএলে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।কাঁচামালের সংকটে গত বছরের নভেম্বর থেকে বন্ধ টিএসপি কারখানা। সেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টন টিএসপি সার উৎপাদন করা সম্ভব। কারখানাটি কবে চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে গত বছরের ১ মার্চ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ টন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।গ্যাস সংকটে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানার উৎপাদনও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন উৎপাদন সক্ষমতার এ কারখানাটি দ্রুত চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।এদিকে ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ২৮ জুন থেকে ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানাটিতে গ্যাসের প্রয়োজন না থাকলেও কাঁচামালের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।বর্তমানে একমাত্র উৎপাদনে থাকা ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ টনের বেশি সার উৎপাদিত হচ্ছে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের মজুত রয়েছে যথাক্রমে ৫ লাখ ৬৮ হাজার, ৩ লাখ ৫২ হাজার, ৩ লাখ ৬৮ হাজার ও ১ লাখ ৮১ হাজার টন। আসন্ন রবি মৌসুমে এসব সারের চাহিদা যথাক্রমে ১৩ লাখ ২৬ হাজার, ৯ লাখ ৮৮ হাজার, ৪ লাখ ৪৯ হাজার ও ৫ লাখ ৯৮ হাজার টন।কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসেই কানাডা, রাশিয়া ও মরক্কো থেকে আরও সার দেশে আসবে। ফলে মৌসুম শুরুর আগেই চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকবে বলে আশা করছে সরকার।কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো সারের সংকট নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মজুত পরিস্থিতি ভালো। সার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তবে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলো দ্রুত সচল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সার আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এদিকে চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ লাখ হেক্টর। রবি মৌসুমে সারের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি থাকবে। ফলে উৎপাদন ও আমদানির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এখনই
Worldwide Freight Services

Worldwide Freight Services

কোন পোস্ট নেই !
ফেডেক্স সার্ভিস Fedex

ফেডেক্স সার্ভিস Fedex

কোন পোস্ট নেই !
ইউপিএস সার্ভিস UPS

ইউপিএস সার্ভিস UPS

কোন পোস্ট নেই !
কাস্টমস ক্লিয়ারিং সার্ভিস C&F

কাস্টমস ক্লিয়ারিং সার্ভিস C&F

কোন পোস্ট নেই !