এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, আছে কিছু চ্যালেঞ্জও

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, আছে কিছু চ্যালেঞ্জও
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি হলেও মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাত, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এলেও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং, রাজস্ব, বিনিয়োগ এবং সুশাসনে কার্যকর সংস্কার জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ দুই বছরে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রেমিট্যান্সও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বেশি।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৈদেশিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বেসরকারি বিনিয়োগ, দুর্বল রাজস্ব আহরণ এবং ব্যাংক খাতের সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ২০২৬ সালের জুনে তা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্তরের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

ব্যাংক খাতেও কাঠামোগত দুর্বলতা অব্যাহত রয়েছে। খেলাপি ঋণের প্রকৃত হার এখন প্রায় ৩২ শতাংশ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ব্যাংকিং খাতকে এখনো দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মুদ্রানীতি নয়, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মতো কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

এদিকে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তব বিনিয়োগ এখনো প্রত্যাশিত গতি পায়নি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের নানা সীমাবদ্ধতা এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে রয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধিও নিম্নমুখী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা পরবর্তী অর্থবছরে কমে ৩ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে।

রাজস্ব খাতেও সংস্কার কার্যক্রম চললেও কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৮ শতাংশের নিচে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নিম্ন। ফলে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা সীমিত থাকছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। এখন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংক খাত সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যবসা সহজীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশা, এসব উদ্যোগ আগামী কয়েক বছরে উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে।

বিষয় : ছাপা সংস্করণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির খবর

এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, আছে কিছু চ্যালেঞ্জও

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি হলেও মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাত, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এলেও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং, রাজস্ব, বিনিয়োগ এবং সুশাসনে কার্যকর সংস্কার জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ দুই বছরে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রেমিট্যান্সও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বেশি। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৈদেশিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বেসরকারি বিনিয়োগ, দুর্বল রাজস্ব আহরণ এবং ব্যাংক খাতের সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ২০২৬ সালের জুনে তা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্তরের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ব্যাংক খাতেও কাঠামোগত দুর্বলতা অব্যাহত রয়েছে। খেলাপি ঋণের প্রকৃত হার এখন প্রায় ৩২ শতাংশ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ব্যাংকিং খাতকে এখনো দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মুদ্রানীতি নয়, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মতো কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এদিকে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তব বিনিয়োগ এখনো প্রত্যাশিত গতি পায়নি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের নানা সীমাবদ্ধতা এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে রয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিও নিম্নমুখী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা পরবর্তী অর্থবছরে কমে ৩ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে। রাজস্ব খাতেও সংস্কার কার্যক্রম চললেও কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৮ শতাংশের নিচে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নিম্ন। ফলে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। এখন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংক খাত সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যবসা সহজীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশা, এসব উদ্যোগ আগামী কয়েক বছরে উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে।

এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক: জাকির হোসেন শাহেদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, আছে কিছু চ্যালেঞ্জও
0:00 0:00
1.0x