এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

ফল রপ্তানিতে চীনমুখী হচ্ছে বাংলাদেশ

ডেক্স রিপোর্ট
ডেক্স রিপোর্ট
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬
ফল রপ্তানিতে চীনমুখী হচ্ছে বাংলাদেশ
প্রতীকী ছবি

চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে ফল ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে দেশটির বাজারের দিকে আরও জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে আয়োজিত মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ দ্বিতীয়বারের মতো সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

আগামীকাল ২১ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এ উৎসবকে চীনা বাজারে বাংলাদেশের ফল ও কৃষিপণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে। এর মাধ্যমে চীনা আমদানিকারক, ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা। একই সঙ্গে পণ্যের মান, চাহিদা, মূল্য ও বাজার সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মেকং-লানচান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৃষি বাণিজ্য বাড়ানো, ফল উৎপাদন ও রপ্তানি সহযোগিতা জোরদার এবং নতুন বাজার তৈরি করাই এ উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। কুনমিংয়ের টোংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত এবারের উৎসবে বিভিন্ন দেশের ফল প্রদর্শন, পণ্য বিক্রয়, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং ও বাজার অনুসন্ধানের সুযোগ থাকছে।

ইউনানে গুদাম ও প্রদর্শনী সুবিধা

চীনের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর আওতায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউনানের নির্দিষ্ট এলাকায় ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম, অফলাইন প্রদর্শনী স্থান এবং অনলাইন কমোডিটি প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের মতো সুবিধাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের মতো বড় বাজারে ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; বাজারে প্রবেশ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও দ্রুত কাস্টমস প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ইউনানে গুদাম ও প্রদর্শনী সুবিধা থাকলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা চীনা ক্রেতাদের কাছে নিয়মিত পণ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ পাবেন।

আম-কাঁঠাল-লিচুতে সম্ভাবনা

বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন ফল চীনের বাজারে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটির বিশাল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজার বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের জন্য বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

তাজা ফলের পাশাপাশি শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে পণ্য বহুমুখীকরণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে। এতে পোশাকনির্ভর রপ্তানি কাঠামোর বাইরে কৃষিপণ্যকে নতুন রপ্তানি খাত হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে বাংলাদেশ প্রথমবার মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়ে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরে। এবার দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণকে শুধু একটি মেলায় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বরং চীনের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের স্থায়ী অবস্থান তৈরির ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন তারা।

কৃষকদের জন্যও বাড়তে পারে সুযোগ

রপ্তানিকারকেরা মনে করছেন, চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়লে দেশের কৃষকদের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রপ্তানিযোগ্য ফলের উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

এতে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের নতুন উৎস তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে চীনের বাজারে বাংলাদেশের ফলের অবস্থান শক্ত করতে হলে মান, নিরাপদ খাদ্য, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে রপ্তানির আগে ফলের গুণগত মান পরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নও প্রয়োজন। এসব সক্ষমতা বাড়ানো গেলে চীনের বিশাল বাজারের সুযোগ কাজে লাগানো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণ সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আম, কাঁঠাল, লিচুসহ অন্যান্য ফল ও কৃষিপণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। ফলে কৃষিপণ্যকে নতুন রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের বাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিষয় : বাংলাদেশ রপ্তানি অর্থনীতির খবর চীন

এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


ফল রপ্তানিতে চীনমুখী হচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image
চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে ফল ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে দেশটির বাজারের দিকে আরও জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে আয়োজিত মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ দ্বিতীয়বারের মতো সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।আগামীকাল ২১ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এ উৎসবকে চীনা বাজারে বাংলাদেশের ফল ও কৃষিপণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাজা ও শুকনো ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করবে। এর মাধ্যমে চীনা আমদানিকারক, ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা। একই সঙ্গে পণ্যের মান, চাহিদা, মূল্য ও বাজার সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।মেকং-লানচান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৃষি বাণিজ্য বাড়ানো, ফল উৎপাদন ও রপ্তানি সহযোগিতা জোরদার এবং নতুন বাজার তৈরি করাই এ উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। কুনমিংয়ের টোংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত এবারের উৎসবে বিভিন্ন দেশের ফল প্রদর্শন, পণ্য বিক্রয়, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং ও বাজার অনুসন্ধানের সুযোগ থাকছে।ইউনানে গুদাম ও প্রদর্শনী সুবিধাচীনের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর আওতায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউনানের নির্দিষ্ট এলাকায় ভাড়ামুক্ত বন্ডেড গুদাম, অফলাইন প্রদর্শনী স্থান এবং অনলাইন কমোডিটি প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের মতো সুবিধাও রয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের মতো বড় বাজারে ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; বাজারে প্রবেশ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও দ্রুত কাস্টমস প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ইউনানে গুদাম ও প্রদর্শনী সুবিধা থাকলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা চীনা ক্রেতাদের কাছে নিয়মিত পণ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ পাবেন।আম-কাঁঠাল-লিচুতে সম্ভাবনাবাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন ফল চীনের বাজারে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটির বিশাল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজার বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের জন্য বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।তাজা ফলের পাশাপাশি শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে পণ্য বহুমুখীকরণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে। এতে পোশাকনির্ভর রপ্তানি কাঠামোর বাইরে কৃষিপণ্যকে নতুন রপ্তানি খাত হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।এর আগে বাংলাদেশ প্রথমবার মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়ে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরে। এবার দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণকে শুধু একটি মেলায় অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বরং চীনের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের স্থায়ী অবস্থান তৈরির ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন তারা।কৃষকদের জন্যও বাড়তে পারে সুযোগরপ্তানিকারকেরা মনে করছেন, চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়লে দেশের কৃষকদের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রপ্তানিযোগ্য ফলের উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।এতে কৃষিভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের নতুন উৎস তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে চীনের বাজারে বাংলাদেশের ফলের অবস্থান শক্ত করতে হলে মান, নিরাপদ খাদ্য, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং নিশ্চিত করা জরুরি।একই সঙ্গে রপ্তানির আগে ফলের গুণগত মান পরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নও প্রয়োজন। এসব সক্ষমতা বাড়ানো গেলে চীনের বিশাল বাজারের সুযোগ কাজে লাগানো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।মেকং-লানচান ফ্রুটস ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের দ্বিতীয়বারের অংশগ্রহণ সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আম, কাঁঠাল, লিচুসহ অন্যান্য ফল ও কৃষিপণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। ফলে কৃষিপণ্যকে নতুন রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের বাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক: জাকির হোসেন শাহেদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট
ফল রপ্তানিতে চীনমুখী হচ্ছে বাংলাদেশ
0:00 0:00
1.0x