বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শতভাগ নগদ মার্জিনের বিপরীতে আমদানি ঋণপত্র খুলতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া এ বিশেষ সুবিধা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে দেশের সব ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রূপালী ব্যাংককে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে শতভাগ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারার আওতায় সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এসএস পাওয়ার-১-এর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে চালু রয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাঁচামালের সংকট তৈরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, এর আগেও উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সচল রাখার স্বার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ বিবেচনায় এ ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এস আলম গ্রুপ ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা এলাকায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। কেন্দ্রটিতে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। এরপর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ৭০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে এস আলম গ্রুপের হাতে। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের সেপকো থ্রি ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ও বেনামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংক থেকে নতুন ঋণসুবিধা দেওয়া বা আমদানি ঋণপত্র খোলার সুযোগ থাকে না। তবে এসএস পাওয়ার-১-এর বিদ্যুৎ উৎপাদন জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় উৎপাদন অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে রূপালী ব্যাংক শতভাগ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের প্রয়োজনীয় আমদানি এলসি খুলতে পারবে। সুবিধাটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বিষয় : বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
