এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

এক সপ্তাহে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকার বেশি

ডেক্স রিপোর্ট
ডেক্স রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
এক সপ্তাহে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকার বেশি
প্রতীকী ছবি

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের দামের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদারের পর আন্তঃব্যাংক বাজারে মার্কিন মুদ্রাটির দাম কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডলারের গড় দাম কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা।

৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। রোববার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৭৮ পয়সায়। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রেও ডলারের দাম কিছুটা কমেছে।

৬ আগস্ট এলসি খোলার ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৯৭ পয়সা। রোববার তা কমে দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সায়। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে ডলারের দাম কমেছে গড়ে ৩২ পয়সা।

ডলারের দাম কমার পেছনে কারসাজির অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক ডলারের দামে কারসাজি করে বাজারে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসার পর কয়েকটি ব্যাংকে বিশেষ তদন্ত চালানো হয়।

তদন্তে ডলার লেনদেনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে ডলারের দাম কমাতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্টের পর থেকে রোববার পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দাম ১ টাকা ৪ পয়সা কমেছে।

রোববার আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১২২ টাকা ৬৩ পয়সা। দিন শেষে গড় দাম দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা।

চাহিদা বাড়লেও কমছে দাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা কমেনি; বরং কিছু ক্ষেত্রে তা বেড়েছে। সাধারণত চাহিদা বাড়লে মুদ্রাটির দামও বাড়ার কথা। কিন্তু এবার এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ব্যাংকগুলোর ডলার সোয়াপ লেনদেনেও ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। ৯ আগস্ট ব্যাংকগুলোতে ডলার সোয়াপের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। পরের সোমবার তা বেড়ে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার তা কমে ৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার এবং বুধবার ৫ কোটি ডলারে নেমে আসে।

এলসি খোলা ও ঋণ পরিশোধ বেড়েছে

ব্যাংকগুলোতে আমদানির এলসি খোলার প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণও বাড়ছে। এর মধ্যেও ডলারের বাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যায়নি।

এদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ডলার কেনার দামও কিছুটা কমেছে। আগস্টের শুরুতে রেমিট্যান্সের ডলারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায়। বর্তমানে তা কমে ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় নেমেছে।

তবে ব্যাংকিং খাতে ডলার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কিছু দুর্বল ব্যাংকে এখনো ডলারের সংকট রয়েছে। এসব ব্যাংক প্রয়োজন মেটাতে তুলনামূলক বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়ানো এবং ডলারের দামে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে আন্তঃব্যাংক বাজারে মুদ্রাটির দাম কিছুটা কমেছে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা কতটা টেকসই হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।V

বিষয় : বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার

এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


এক সপ্তাহে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকার বেশি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের দামের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদারের পর আন্তঃব্যাংক বাজারে মার্কিন মুদ্রাটির দাম কমেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডলারের গড় দাম কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা।৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। রোববার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৭৮ পয়সায়। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রেও ডলারের দাম কিছুটা কমেছে।৬ আগস্ট এলসি খোলার ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৯৭ পয়সা। রোববার তা কমে দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সায়। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে ডলারের দাম কমেছে গড়ে ৩২ পয়সা।ডলারের দাম কমার পেছনে কারসাজির অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক ডলারের দামে কারসাজি করে বাজারে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসার পর কয়েকটি ব্যাংকে বিশেষ তদন্ত চালানো হয়।তদন্তে ডলার লেনদেনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে ডলারের দাম কমাতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্টের পর থেকে রোববার পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দাম ১ টাকা ৪ পয়সা কমেছে।রোববার আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১২২ টাকা ৬৩ পয়সা। দিন শেষে গড় দাম দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৭৮ পয়সা।চাহিদা বাড়লেও কমছে দামবাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা কমেনি; বরং কিছু ক্ষেত্রে তা বেড়েছে। সাধারণত চাহিদা বাড়লে মুদ্রাটির দামও বাড়ার কথা। কিন্তু এবার এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।ব্যাংকগুলোর ডলার সোয়াপ লেনদেনেও ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। ৯ আগস্ট ব্যাংকগুলোতে ডলার সোয়াপের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। পরের সোমবার তা বেড়ে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার তা কমে ৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার এবং বুধবার ৫ কোটি ডলারে নেমে আসে।এলসি খোলা ও ঋণ পরিশোধ বেড়েছেব্যাংকগুলোতে আমদানির এলসি খোলার প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণও বাড়ছে। এর মধ্যেও ডলারের বাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যায়নি।এদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ডলার কেনার দামও কিছুটা কমেছে। আগস্টের শুরুতে রেমিট্যান্সের ডলারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায়। বর্তমানে তা কমে ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় নেমেছে।তবে ব্যাংকিং খাতে ডলার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কিছু দুর্বল ব্যাংকে এখনো ডলারের সংকট রয়েছে। এসব ব্যাংক প্রয়োজন মেটাতে তুলনামূলক বেশি দামে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়ানো এবং ডলারের দামে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে আন্তঃব্যাংক বাজারে মুদ্রাটির দাম কিছুটা কমেছে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা কতটা টেকসই হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।V

এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক: জাকির হোসেন শাহেদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট
এক সপ্তাহে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকার বেশি
0:00 0:00
1.0x