এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট

বাংলাদেশে আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবের সম্ভাবনা, সমন্বিত কৌশলের আহ্বান

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আঞ্চলিক বিমান পরিবহন (অ্যাভিয়েশন) কেন্দ্র বা ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সরকার, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এদিকে দেশের বিমান পরিবহন খাতের আকার ও সক্ষমতা বাড়াতে বহর সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে। খাতের বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে কেবল একটি একক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সম্প্রসারণ হিসেবে না দেখে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন অর্থনীতির জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর আধিপত্য রয়েছে, যার ফলে অ্যাভিয়েশন খাতের আয়ের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে চলে যায়। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক দেশীয় বিমান সংস্থা আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব দেশে ধরে রাখতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন উড়োজাহাজ ও নতুন রুট চালু করা ছাড়াও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কার্গো পরিবহন, পর্যটন খাতের বিকাশ, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই খাতের বহুমাত্রিক বিকাশ সম্ভব। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও দ্রুত হবে। উদ্যোক্তাদের মতে, বৈশ্বিক বিমান পরিবহন বাজারে একটি শক্তিশালী ‘বাংলাদেশি অ্যাভিয়েশন ব্র্যান্ড’ গড়ে তোলা সম্ভব হলে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে কেবল বিমানের সংখ্যা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য এবং বহর সম্প্রসারণের পূর্ণ সুফল পেতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, উন্নত সেবার মান, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং সর্বোপরি সরকারের বিমান পরিবহন নীতির যথাযথ সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বিমানবন্দরের চার্জ ও ট্যাক্স নীতি যুগোপযোগী করা এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতেই আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

বাংলাদেশে আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবের সম্ভাবনা, সমন্বিত কৌশলের আহ্বান