রাজস্ব ঘাটতি ৮৭ হাজার কোটি
রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সংস্থাটির রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। ফলে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি।এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়লেও লক্ষ্য থেকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং কর প্রশাসনে কার্যকর সংস্কার ছাড়া প্রতিবছর একই ধরনের ঘাটতি অব্যাহত থাকবে।বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় সমস্যা করের হার নয়; বরং করজালের সীমাবদ্ধতা, কর ফাঁকি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলে বছর শেষে ঘাটতি থাকাই স্বাভাবিক।পাঁচ বছর ধরেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নিস্বাধীনতার পর কোনো অর্থবছরেই এনবিআর বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। গত পাঁচ অর্থবছরের তথ্যেও ধারাবাহিক ঘাটতির চিত্র দেখা যায়।২০২১-২২: ৩৫,১৭৫ কোটি টাকা২০২২-২৩: ৪১,৯১৫ কোটি টাকা২০২৩-২৪: ৪৮,৫৪৮ কোটি টাকা২০২৪-২৫: ৯২,৬২৫ কোটি টাকা২০২৫-২৬: ৮৭,৫২৭ কোটি টাকাপলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, রাজস্ব ঘাটতি বাড়লে সরকারের ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। এতে সুদ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও চাপ সৃষ্টি হয়। তাই শুধু উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নয়, তা অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি।কোন খাত থেকে কত রাজস্ব এলোবিদায়ী অর্থবছরে—ভ্যাট: ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকাআয়কর: ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকাকাস্টমস: ১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ কোটি টাকাতিনটি খাতেই রাজস্ব আদায় বেড়েছে, তবে কোনো খাতই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।জুনে আদায়ে গতিঅর্থবছরের শেষ মাস জুনে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা গতি ফিরে আসে। ওই মাসে মোট ৫৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধি ছিল—কাস্টমস: ৭১.৮৩%ভ্যাট: ২২.২৭%আয়কর: ১৩.৮৪%এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ মনে করেন, নতুন করদাতা শনাক্তে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্য অর্জনে বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।