গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রধান আমিষের উৎস মুরগি, ডিম ও দুধের দাম আবারও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোনালি মুরগির দামও রয়েছে চড়া। একই সঙ্গে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার দুধের দাম উঠেছে ১১০ টাকায়। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের আমিষের চাহিদা মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে টানা কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টির কারণে চড়া থাকা রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। যদিও কিছু সবজি এখনো ১০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এ দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার দুধ ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দোকানে মিল্কভিটার এক লিটারের দামও ১১০ টাকা দেখা গেছে।
অন্যদিকে দেশি মুরগি ও দেশি ডিমের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
ভারত থেকে আমদানির প্রভাবে রাজধানীর বাজারে কাঁচামরিচের দামও কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এখন অনেক বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় নেমে এসেছে। পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া বরবটি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নারিন্দা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আমিনুল হক বলেন, বৃষ্টির সময় খেত থেকে ঠিকমতো সবজি উঠতে না পারায় বাজারে সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এতে দাম বেড়েছিল। এখন সরবরাহ বাড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। তবে মৌসুম না থাকায় কিছু সবজির দাম এখনো বেশি।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী আবির ইমন বলেন, আগের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে, এতে স্বস্তি মিলেছে। তবে সব ধরনের সবজি এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি।
কারওয়ান বাজারের আড়ত ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামরিচ পাইকারি বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি ব্যয় পড়ছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনে দাম আরও কমতে পারে। তবে খুচরা বাজারে এখনো অনেক বিক্রেতা বেশি দামে মরিচ বিক্রি করছেন।
কিচেন মার্কেটের ডিম ব্যবসায়ী মো. রফিকুল হক বলেন, বন্যার কারণে উৎপাদন কমেছে—এমন অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। বাজার তদারকি জোরদার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, খামার থেকেই বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। খাদ্য ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী আড়তের ডিম বিক্রেতা জসিম বলেন, খামার পর্যায়েই ডিমের দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাই ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুরগি ও ডিমের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমিষপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
ক্রেতাদের অভিযোগ, এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। একদিকে আমিষপণ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কিছুটা কমলেও সবজির বাজার এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক হয়নি।
বিষয় : কাঁচাবাজার বাজার দর মাংসের দাম

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
