দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে আবারও ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। সীমিত পরিসরে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হওয়ায় বন্দর এলাকায় ব্যস্ততা বেড়েছে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের। তবে রপ্তানি কার্যক্রম কিছুটা গতি পেলেও আমদানি এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত শুরুর পর প্রায় এক বছর টেকনাফ স্থলবন্দরের সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের মে মাস থেকে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি ট্রলার বন্দরে আসতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে সীমান্ত বাণিজ্য আবারও সচল হতে থাকে।
বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় বন্দরের শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কসংলগ্ন চায়ের দোকানসহ স্থানীয় ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক কম। মিয়ানমার থেকে আমদানি বাড়ানো গেলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
টেকনাফ বন্দরের শ্রমিক আলী আজগর বলেন, দীর্ঘদিন বন্দর বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিক আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। এখন আবার কাজ শুরু হওয়ায় নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বন্দর পুরোপুরি সচল হলে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেন তিনি।
টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এহেতাশামুল হক বাহাদুর জানান, বর্তমানে সীমিত পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চলছে। মিয়ানমার থেকে প্রধানত কাঠ আমদানি করা হচ্ছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে আলু, কোমল পানীয়, বোতলজাত পানি, প্লাস্টিকজাত পণ্য, বিস্কুটসহ বিভিন্ন দেশীয় পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানি হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমদানির পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানো গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, চলতি বছরের মে মাসে বন্দর দিয়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলার। জুনে রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৫ দশমিক ১ মার্কিন ডলারে। ওই মাসে আমদানি থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৪ হাজার ২৩১ টাকা ৯ পয়সা।
তিনি জানান, জুলাই মাসে আমদানি থেকে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ২৫ পয়সা রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৪ দশমিক ৬৮ মার্কিন ডলার।
মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ বেশি। তবে অতীতে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই বাণিজ্যের পরিমাণ এবং রাজস্ব আয় আরও বেশি ছিল।
সংশ্লিষ্টদের আশা, মিয়ানমারের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টেকনাফ স্থলবন্দর আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
