বন্ধ পাটকল ইজারা: দুই শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি আজ, বিনিয়োগ ১০০০ কোটি টাকা
বছরের পর বছর লোকসানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা খুলনা ও সিরাজগঞ্জের তিনটি পাটকল এবার প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপের কাছে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। এসব কারখানায় তৈরি পোশাক, জুতা, খেলনা, আসবাব, বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য ও লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইজারার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ জুলাই লোকসানের কারণে ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেয় সরকার। এর আগে ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে পাঠানো হয়। বন্ধ হওয়ার পর পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১৪টি পাটকল ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি উৎপাদনে গেছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।নতুন চুক্তির আওতায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ খুলনার দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলস এবং সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস ইজারা পাচ্ছে। অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল ৩০ বছরের জন্য ইজারা পাচ্ছে হ্যামকো গ্রুপের আবদুল্লাহ ব্যাটারি কোম্পানি।বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মামনুর রশিদ বলেন, খুলনা ও সিরাজগঞ্জের তিনটি পাটকল প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে।প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। সেখানে উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য, আসবাব ও এমডিএফ বোর্ডসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলসে তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প, ব্যাগ, জুতা ও খেলনা উৎপাদনের পাশাপাশি কাঁচামাল, প্যাকেজিং ও পণ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল। এতে কর্মসংস্থান হবে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষের।প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, কারখানা দুটিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি রপ্তানির জন্যও পণ্য উৎপাদন করা হবে। প্রস্তুত জমি পাওয়ায় দ্রুত উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে।অন্যদিকে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের প্রায় ৫০ একর জমি ইজারা নিয়ে দুটি কারখানা স্থাপন করবে হ্যামকো গ্রুপ। এতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং ৩ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।হ্যামকো গ্রুপের কোম্পানি সচিব রেজাউল করিম জানান, বিজেএমসি তিন মাসের মধ্যে বন্ধ পাটকলটি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এরপর কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হবে এবং এক বছরের মধ্যে দুটি কারখানাই চালুর প্রত্যাশা রয়েছে।হ্যামকো সেখানে পাটের বিশেষায়িত ম্যাট্রেস এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করবে। পাটের ম্যাট্রেস বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে ব্যাটারির সেল এনে দেশে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাজশাহী টেক্সটাইল মিল ও রাজশাহী জুট মিলও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ চালু করেছে। দুটি কারখানায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ কাজ করছেন।